"মাদক, অবৈধ চিকিৎসা ও অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ ব্যবহারের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান। (প্রতীকী ছবি)"

সম্পাদকীয়

মাদক, ভুয়া চিকিৎসা ও অবৈধ হাসপাতালের বিস্তার: জনস্বাস্থ্যের নীরব সংকট

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনপদ খুলনা বিভাগ, বিশেষ করে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি মাদক বিস্তার, লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ভুয়া চিকিৎসা চর্চা এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের অভিযোগ উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অনিয়ম শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়; এটি সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু এলাকায় যথাযথ অনুমোদন ও নিবন্ধন ছাড়াই চিকিৎসাকেন্দ্র, চেম্বার এবং ছোট হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে। কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ বা নামমাত্র সনদের ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। এর ফলে ভুল চিকিৎসা, রোগ জটিলতা এবং রোগীর আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে।

অন্যদিকে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি ও ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণু সৃষ্টি করে, যা ভবিষ্যতে সাধারণ সংক্রমণের চিকিৎসাকেও কঠিন করে তুলতে পারে।

মাদক সমস্যাও সমানভাবে উদ্বেগজনক। মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—তিন স্তরেই ক্ষতির কারণ হয়। শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের মধ্যে এর বিস্তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বড় বাধা।

এ অবস্থায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অবৈধ হাসপাতাল ও চেম্বারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে নজরদারি এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি।

গণমাধ্যমের দায়িত্বও কম নয়। তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা প্রয়োজন। কারণ সুস্থ সমাজ ও নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা শুধু সরকারের নয়, আমাদের সবার দায়িত্ব।

— সম্পাদক
দ্য সুন্দরবন নিউজ

Don’t miss these tips!

We don’t spam! Read our privacy policy for more info.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।