খুলনা বিভাগ

সুন্দরবনে বন বিভাগের কর্মীদের গুলিতে জেলে নিহত হওয়ার অভিযোগ

সাতক্ষীরা, সুন্দরবন

সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণের সময় বন বিভাগের কর্মীদের গুলিতে আমিনুর রহমান গাজী নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৮ মে) সকাল ৭টার দিকে সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের শতমুখী খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আমিনুর রহমান গাজী (৪৫) শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা এলাকার বাসিন্দা।

নিহতের সঙ্গে থাকা জেলেদের দাবি, তারা সুন্দরবনের শতমুখী খালে কাঁকড়া ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় বন বিভাগের খুলনা স্মার্ট পেট্রল টিমের সদস্যরা তাদের ডাক দেন। জেলেরা কাছে না গেলে বন বিভাগের সদস্যরা গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে আমিনুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনার বিষয়ে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুন্দরবনের ভেতরে বর্তমানে বনদস্যু নির্মূলে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে। সেখানে বনবিভাগ, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন বাহিনী একযোগে দায়িত্ব পালন করছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

সাতক্ষীরা, সুন্দরবন।

এ বিষয়ে গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, ইতোমধ্যে খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও), সাতক্ষীরার সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ), শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানায় আমি বিষয়টি অবহিত করেছি। বন বিভাগের ডিএফও আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে এ বিষয়ে বন বিভাগের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য জানতে সুন্দরবন পশ্চিমের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এদিকে বন বিভাগের সদস্যদের গুলিতে আমিনুর রহমান গাজীর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় জেলেদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা ইতোমধ্যে বন বিভাগের অফিস ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছেন।

আম সংগ্রহ শুরু, চাষিদের মাঝে উৎসবের আমেজ

সাতক্ষীরা

নির্ধারিত সময়সূচি মেনে সাতক্ষীরায় শুরু হয়েছে চলতি মৌসুমের আনুষ্ঠানিক আম সংগ্রহ। গাছ থেকে সঠিক সময়ে আম পাড়া এবং গুণগত মান বজায় রেখে বাজারজাত নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নে আমচাষি আবু সাইদের বাগানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে আম সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) বিষ্ণুপদ পাল। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিপুলসংখ্যক আমচাষি অংশ নেন।

উদ্বোধনের পরই বাগানজুড়ে শুরু হয় আম পাড়া। চাষিদের ব্যস্ততায় পুরো এলাকা ফিরে পায় প্রাণচাঞ্চল্য, তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

জেলা প্রশাসনের ঘোষিত ‘আম ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী, ৫ মে থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই ও গোলাপখাস জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। ১৫ মে থেকে বাজারে আসবে সুগন্ধি হিমসাগর, ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি সংগ্রহ করা হবে। নির্ধারিত সময়ের আগে আম পাড়া বা বিক্রি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ হাজারের বেশি হেক্টর জমিতে ৫ হাজারেরও বেশি বাগানে প্রায় ১২ হাজার চাষি আম চাষ করেছেন। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টন। 

আমচাষি আবু সাইদ জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এ সময়টি আসে। চলতি মৌসুমে গাছে ফলন ভালো হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আম সংগ্রহ শুরু হওয়ায় তিনি ভালো দাম পাওয়ার আশা করেন। 

কৃষি বিভাগ জানায়, নির্ধারিত সময় মেনে আম সংগ্রহ শুরু হওয়ায় ফলের স্বাভাবিক পরিপক্বতা বজায় থাকবে, যা সাতক্ষীরার আমের সুনাম ধরে রাখতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি অপরিপক্ব ও রাসায়নিকযুক্ত আম বাজারজাত ঠেকাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সাতক্ষীরার আম এখন দেশীয় বাজারের পাশাপাশি ইউরোপসহ আন্তর্জাতিক বাজারেও সমাদৃত। চলতি মৌসুমে প্রায় ১০০ টন আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।